নদী ও জলাশয় ভরাটের কারণ, প্রভাব ও প্রতিরোধ (Causes of river and wetlands filling its impact and prevention)

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - ভূগোল ও পরিবেশ - বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ | NCTB BOOK
2.4k
Summary

বাংলাদেশে নদী ও জলাশয় ভরাটের কারণ ও প্রতিকার:

বাংলাদেশে নদী ও জলাশয় ভরাটের পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট একাধিক কারণ বিদ्यमান। প্রধান কারণ গুলি হলো:

  • পলিমাটি দ্বারা গঠিত বেহাল ভূপৃষ্ঠ।
  • বর্ষাকালে উজান থেকে আসা খরস্রোতা নদীগুলোর পলি বহন।
  • অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক নির্মাণ।
  • আন্তর্জাতিক নদীগুলো থেকে পানি প্রত্যাহার।

ভরাটের ফলে:

  • বর্ষাকালে বন্যা দেখা দেয়।
  • শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটসহ নৌচলাচল ও সেচব্যবস্থায় সমস্যা।
  • শহরগুলোতে পানির সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

প্রতিরোধের ব্যবস্থা:

  • নিয়মিত ড্রেজিং।
  • পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ।
  • অপদখল উদ্ধার।
  • বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন।
  • আন্তর্জাতিক নদীগুলোর জন্য ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিতকরণ।
  • বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকর করা।
  • ভূঅভ্যন্তরস্থ পানি ব্যবহারের তুলনায় নদীর পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া।

নদী ও জলাশয় ভরাট প্রতিরোধে দলীয় আলোচনা ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশে নদী ও জলাশয় ভরাটের পিছনে বহুবিধ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ জড়িত রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র ভূপৃষ্ঠ পলিমাটি দ্বারা গঠিত। পলিমাটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পানির সংস্পর্শে এটি সহজে দ্রবণে পরিণত হয়। বর্ষাকালে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে এবং এর উজানে প্রতিবেশী দেশ চীন, নেপাল, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষাকালে উজান থেকে আসা খরস্রোতা নদীগুলো পাহাড়ি পলি বয়ে নিয়ে আসে এবং নদীতীরে ভাঙনের সৃষ্টি করে। ভাটিতে নদীগুলোর স্রোতের গতি কমে যায় তখন নদীগুলোর তলদেশে পলি সঞ্চিত হয়ে ভরাট হয় ও ক্রমে নাব্যতা হ্রাস পায় । দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নদী ও জলাশয়গুলোর দু'ধারে অপরিকল্পিত বাঁধ, সড়ক, কলকারখানা, আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ ও পয়ঃনিষ্কাশনের নির্গমন স্থান হিসেবে ব্যবহার এবং নদী-জলাশয়গুলোর অপদখল ও ভরাটকরণের ফলে দ্রুত নদী ও জলাশয়গুলো মরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে বিরোধ ও ঐগুলো থেকে পানি প্রত্যাহারের ফলে পানির খরস্রোতধারা কমে যাওয়ায় নদীর মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে চর জেগে উঠছে।

নদী ও জলাশয়গুলো ভরাটের কারণে বর্ষাকালে পানির প্রবাহধারা বাধাগ্রস্ত এবং দুকূল উপচিয়ে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। আর শুষ্ক মৌসুমে ঐগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌচলাচল, সেচ ব্যবস্থা ও মাছচাষ ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানির জলাধারের সংরক্ষণ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়ায় শহরগুলোতে পানির সরবরাহ কমে যাচ্ছে ও পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত নদী ও জলাশয়গুলো ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করে এদের নাব্যতা রক্ষা করা, পরিকল্পিত ও পরিবেশ উপযোগীভাবে বাঁধ এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন অপদখলীয় নদী ও জলাশয় উদ্ধার, পাহাড়কাটা রোধ, কলকারখানার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য পরিশোধন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। ভারত, নেপাল ও চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ফেনীসহ অন্যান্য নদীগুলোর ন্যায্যতার ভিত্তিতে পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিক পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিদ্যমান পরিবেশ আইন যুগোপযোগী ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়াও ভূঅভ্যন্তরস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করে নদীর পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।

কাজ : নদী ও জলাশয় ভরাট কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়? দলীয়ভাবে আলোচনা করে খাতায়/পোস্টার পেপারে লেখ।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...